ভাবসম্প্রসারণ : কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে / দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 801 words | 5 mins to read |
Total View 24K |
|
Last Updated 22-Apr-2026 | 09:33 PM |
Today View 0 |
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
অথবা,
কাঁটাবনের গোলাপই সত্যিকারের গোলাপ।
অনায়াসে লব্ধ কোনো জিনিসের চেয়ে কষ্টে প্রাপ্ত জিনিজের মূল্য অনেক বেশি। কঠিন বাস্তবতার পথ পাড়ি দিয়ে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে যে আরোহণ করতে পারে সেই পায় প্রকৃত জীবনের আস্বাদ।
কষ্টে কোনো কিছু অর্জন করলে তার মূল্যায়ন হয় বেশি। কাঁটার আঘাতে রক্ত ঝরিয়ে কাঁটা বন থেকে গোলাপ ফুল সংগ্রহ করায় যে আনন্দ, তার তুলনা নেই। কিন্তু যে গোলাপ নাগালের কাছেই ফুটে থাকে, যাকে যখন তখন হাত বাড়ালেই তুলতে পারা যায় সেটা অতটা আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে না। কিন্তু প্রচুর পরিশ্রমের মাধ্যমে যা অর্জন করা যায় তা পেয়ে মানুষ দারুণ আন্দ অনুভব করে। যে ছাত্র কঠোর পরিশ্রম করে ভালো রেজাল্ট করে তার আনন্দের সীমা থাকে না। আমাদের চলার পথ উপল বিছানো, কণ্টকাতীর্ণ, সংগ্রামে ভরপুর। সাহসী যোদ্ধার মতো জীবনসংগ্রামে যারা অবতীর্ণ হয় তারাই সফলতা অর্জন করতে পারে; তাদের গলায়ই শোভা পায় বিজয়ের মাল্য। তারাই সাফল্যের মুখ দেখতে পারে। আর যারা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যারা উত্তরাধিকারসূত্রেই প্রচুর সম্পদের অধিকারী, যারা না চাইতে অনেক কিছু পায় তারা জীবনের আসল অর্থ বুঝতে পারে না। কঠিন বাস্তবতার আশ্রয়ে যে জীবন গঠিত, সে জীবনের স্বাদ থেকে সে পুরোপুরি বঞ্চিত। প্রচুর্য আর অর্থ তাদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা। তারা শুধু সুখের পায়রার মতো জীবন যাপন করে। ভোগ বিলাস আনন্দের মধ্যেই তাদের জীবন। কষ্ট বা দুঃখের জীবন তাদের কাছে ধরা দেয় না। কীভাবে একজন কৃষক ধান জন্মাল তা না ভেবেই তারা ধানের চাউল থেকে ভাত খায়। পরগাছার মতো তারা সমাজে বেড়ে ওঠে। জীবনে তাদের গৌরব করার কিছুই নেই। কিন্তু একজন কৃষকের তা আছে। যারা বহু চড়াই উতরাই পাড়ি দিয়ে, বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে জীবনের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে পারে তারাই আদর্শ মানুষ। গর্ব করার অধিকার শুধু তাদের। অল্প পরিশ্রমে ধনীরা পায় কোটি কোটি টাকা। আর সারদিন পরিশ্রম শেষে গরিব শ্রমিকেরা যখন দুটো অন্ন যোগাড় করার মতো টাকা পায় তখন তাদের খুশির সীমা থাকে না। তারা পরগাছা নয়। তাদের শিকড় অনেক গভীরে। বাস্তবতার সংগ্রামে তারাই টিকে থাকবে।
সুখী, শ্রমবিমুখ, পরনির্ভরশীল মানুষেরা জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পায় না। সংগ্রামে অর্জিত জীবন খুঁজে পায় প্রকৃত আনন্দ।
এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো
পৃথিবীতে যে কোনো কাজে সাফল্য লাভ করতে হলে চাই শ্রম, সাধনা ও নিষ্ঠা; চাই প্রতিকূলতাকে জয় করার মনোবল ও সহ্য শক্তি। কণ্টকাকীর্ণ দুঃখময় পথের সমস্ত প্রতিকূলতাকে দৃঢ়চিত্তে বরণ করতে পারলেই আসে সুখ, আসে সাফল্য। দুঃখভোগ বা কষ্টসহিষ্ণুতার ভয়ে কর্মবিমুখ হয়ে থাকলে সাফল্য ও সুখ অর্জন করা যায় না। সাফল্যের আনন্দ পেতে হলে দুঃখের আঘাত সইতে হয়।
প্রতিটি মানুষই জীবনে সফল ও সুখী হতে চায়। জীবনে সুখ ও আনন্দ পেতে হলে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করতে হলে মানুষকে সাধনা করতে হয়, কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। পদ্মের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কেউ যদি তাকে পেতে চায়, তবে তাকে নামতে হয় সরোবরের জলে ও কাদায়, সইতে হয় পদ্ম কাঁটার আঘাত। তেমনি শ্রম ও সাধনা ছাড়া জীবনে সাফল্যের আনন্দ আসে না। পৃথিবীতে যাঁরা বরণীয়-স্মরণীয় হয়েছেন সেসব মনীষীকে জীবনে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দৃঢ় চিত্তে দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকুলতাকে জয় করেই তাঁরা সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেছেন, সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রচণ্ড শ্রমের বিনিময়ে কৃষক যেমন পায় সোনার ফসল তেমনি ছাত্রজীবনে কঠোর শ্রমের বিনিময়ে রচিত হতে পারে সাফল্য- সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ জীবনের বুনিয়াদ। এক্ষেত্রে স্মরণীয় একটি বিদেশী প্রবাদ : “পরিশ্রম ছাড়া ফল লাভ হয় না। যে মুক্তো খোঁজে তাকে রাতের পর রাত জগতে হয়।”
বস্তুত শ্রম ও চেষ্টা ছাড়া মানুষ জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারে না। ত্যাগ, তিতিক্ষা ও সাধনা ছাড়া জীবনে কোনো মহৎ প্রাপ্তি ঘটে না। শ্রমকে ভয় পেলে, কষ্ট দেখে পিছুপা হলে জীবনে সাফল্য আসে না। দুঃখ-কষ্ট, বাধা-বিঘ্ন অগ্রাহ্য করে লক্ষ্য অর্জনে অবিচলিত প্রয়াসই মানব জীবনে সাফল্য নিয়ে আসে।
এই ভাবসম্প্রসারণটি আবারও অন্য বই থেকে সংগ্রহ করে দেয়া হলো
পরিশ্রম বা দুঃখকষ্টের ভয়ে কর্ম থেকে দূরে থাকা উনুচিত। পৃথিবীর সব কাজই কষ্টসাধ্য। দুঃখ ছাড়া সুখ কিছুতেই লাভ করা যায় না।
পৃথিবীতে মানুষের চলার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ নয়, রবং কণ্টকাকীর্ণ। জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি অর্জনের পূর্বশর্ত হলো- এ কণ্টকাকীর্ণ দুঃখময় পথের সমস্ত প্রতিকূলতাকে হাসিমুখে বরণ করে অগ্রসর হওয়া। দুঃখকে বরণ করতে না শিখলে সুখ অর্জন করা সম্ভব নয়। কাঁটার আঘাতের ভয়ে কেউ পদ্মফুল সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকলে, কার পক্ষে কখনোই পদ্মফুল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। ক্লান্তির ভয়ে পথিক ভীত হয়ে পড়লে তার পক্ষে কখনো গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। বরং সেখানে পৌঁছতে হলে তাকে পথের ক্লান্তি স্বীকার করতেই হবে। স্বীকার করতে হবে পথের সকল প্রতিকূলতা। জয় করতে হবে পথপ্রান্তের সব প্রতিবন্ধকতা। তাই জীবনে চলার পথের সকল প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দৃপ্ত সংকল্পে মানুষকে অগ্রসর হতে হয় ইপ্সিত লক্ষ্য অর্জনের জন্যে। পৃথিবীতে যাঁরা আজ স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিত্ব, তাদের প্রত্যেকেই অবিরাম দুঃখকষ্টের সাথে সংগ্রাম করতে হয়েছে। তাঁদের অতিক্রম করতে হয়েছে নানা বাধাবিপত্তি। বস্তুত মানুষের জীবনে দুঃখের ভেতর দিয়েই আসে প্রকৃত সুখ।
মহৎ সাফল্য সাধনা সাপেক্ষ। জীবনে সাফল্য লাভ করতে হলে জীবন-পথের বাধা-বিপত্তি ও দুঃখ-দুর্দশা বরণ করে অগ্রসর হতে হবে।
শিক্ষণীয় দিক:
- সাফল্য ও সুখ অর্জনের পূর্বশর্ত হলো কঠোর পরিশ্রম এবং বাধা অতিক্রম করার সাহস।
- কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্যের স্বাদ ও মর্যাদা বিনাশ্রমে পাওয়া জিনিসের চেয়ে অনেক বেশি।
- বিপদ বা প্রতিকূলতা দেখে থমকে গেলে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (2)
I like the last one .
Thanks...
The first one is better.