ভাবসম্প্রসারণ : পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়, পথের দু'ধারে আছে মোর দেবালয়

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
387 words | 3 mins to read
Total View
17.2K
Last Updated
09-May-2026 | 10:35 AM
Today View
0
পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়,
পথের দু'ধারে আছে মোর দেবালয়

মূলভাব : এ পৃথিবীতে মানুষ স্রষ্টার প্রতি ভক্তির জন্য উপাসনালয় গড়ে তুলেছেন। নিবৃতে স্রষ্টার ধ্যান করলে তাঁকে পাওয়া যাবে; এটাই মানুষের বিশ্বাস। 

ভাবসম্প্রসারণ : মানুষ জগৎ সংসারে লক্ষ লক্ষ বছর আগে থেকে বাস করে আসছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস। ধর্মীয় অনুভূতি, স্রষ্টাকে অনুসন্ধান ও স্রষ্টার প্রতি ভক্তির কারণে মানুষ উপাসনালয়, মন্দির-মসজিদ ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। মানুষ মনে করে উপাসনাগৃহে নিভৃতে স্রষ্টার ধ্যান করলে তাঁকে পাওয়া যায়। মানুষের ধারণা স্রষ্টা শুধু এখানেই বিরাজ করেন, অন্য জায়গায় স্রষ্টা নেই। কিন্তু নির্দিষ্ট উপাসনাগৃহে গিয়ে মুক্তি পেতে চাইলে এবং পুণ্য অর্জনের আশা করলে কি হবে, সেখানে মুক্তি নেই এবং স্রষ্টাকেও পাওয়া যায় না। কারণ স্রষ্টা বিরাজ করেন সৃষ্টির মধ্যে, মানুষের মধ্যে। দেবালয়ের বা উপাসনাগৃহের চারপাশে রয়েছে সৃষ্টি জগৎ, দেবালয়ের পথ জুড়ে আছে অসংখ্য মানুষের দল। তাদের সেবা করতে পারলে এবং তাদের আপন করে নিতে পারলে প্রকৃত কাজ হবে। মানুষের সেবাই হলো প্রকৃত উপাসনা। মানুষই শ্রেষ্ঠ দেবালয়।

সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ কেবল উপাসনালয়ের মধ্যে নয়; উপাসনালয়ের বাইরেও অনেক দেবালয় আছে। আসলে, শ্রেষ্ঠ দেবলয় হলো মানুষ।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


ভাব-সম্প্রসারণ : সমগ্র জীবনের সাধনার শেষে মানুষ সিদ্ধিলাভ করতে চায়। জীবন-পথের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ জীবনের পরম বাঞ্ছিতকে পেতে চায়। সে জন্যে দূর-দূরান্তের দুর্গম যাত্রাপথ অতিক্রম করে পরিণত বয়সে মানুষ পবিত্র তীর্থস্থানে এসে উপস্থিত হয়। সেখানে স্রষ্টা কিংবা দেবতার আরাধনা করে তারা তৃপ্তিলাভ করে। আবহমান কাল ধরে মানুষ এভাবেই ধর্মসাধনা করে আসছে।

কিন্তু ধর্মসাধনা কেবল পবিত্র তীর্থস্থান দর্শনের মধ্যেই সীমিত হতে পারে না। প্রকৃত ধর্মসাধক জানেন, স্রষ্টার অধিষ্ঠান কেবল উপাসনালয়ে নয়, দেবতার অধিষ্ঠান কেবল তীর্থস্থানে বা প্রতিষ্ঠিত পাষাণের মূর্তির মধ্যে নয়। স্রষ্টা ও দেবতার আসন রয়েছে সাধারণ জনগণের মধ্যে। দুঃখী, নিরন্ন মানুষের জীবনের সধ্যে তাঁর মহিমাময় আসন পাতা। মানুষের প্রেম, প্রীতি, মমতা ও ভালোবাসার মধ্যে স্রষ্টার স্বরূপের বিচিত্র প্রকাশ। সুতরাং ধর্মসাধনা করতে হলে কিংবা স্রষ্টার লীলা উপলব্ধি করতে হলে কেবল তীর্থক্ষেত্রে গেলে চলে না, জীবনের চলার পথে পদে পদে তাঁকে পাওয়ার সাধনা করা যায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজকর্মের মধ্যেই আমরা স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি। জীবনের চলার পথে প্রতিটি লগ্নে দুঃখী ও বিপন্ন মানুষের কল্যাণে ছোট ছোট অবদান রেখেও আমরা স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করতে পারি। এ জন্যে জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হওয়ার জন্যে অপেক্ষা করতে হয় না। প্রাত্যহিক জীবনের চলার পথে সৎকাজ, মহৎ চিন্তা ও মঙ্গল সাধনার মাধ্যমেই আমরা ধর্মসাধনায় অংশ নিতে পারি।

বস্তুত মানুষের সমগ্র জীবনই এক অর্থে তীর্থস্থান। কারণ, পরম স্রষ্টা বিরাজ করেন সব মানুষের মধ্যেই।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.docx)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (1)

Arun Kumar 23-Nov-2025 | 07:33:48 PM

Bhalo hoi ni
Too hard for a student to study 😭

Old Taka Archive (ota.bd)

✓ ১০০% আসল নোটের নিশ্চয়তা