ভাবসম্প্রসারণ : বহুমূল্য পরিচ্ছদ রতন ভূষণ / নরের মহত্ত্ব নারে করিতে বর্ধন। / জ্ঞান পরিচ্ছদ আর ধর্ম অলঙ্কার / করে মাত্র মানুষের মহত্ত্ব বিস্তার।
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 462 words | 3 mins to read |
Total View 1.1K |
|
Last Updated 09-May-2026 | 11:03 AM |
Today View 0 |
বহুমূল্য পরিচ্ছদ রতন ভূষণ
নরের মহত্ত্ব নারে করিতে বর্ধন।
জ্ঞান পরিচ্ছদ আর ধর্ম অলঙ্কার
করে মাত্র মানুষের মহত্ত্ব বিস্তার।
মূলভাব : বহু দামী পোশাক আর দামী অলঙ্কার পরলে মানুষ মহৎ হয় না। মানুষের মহত্ত্ব তার জ্ঞান-গরিমার মধ্যে, তার ধর্মীয় উৎকর্ষের মধ্যে। এগুলোই যথার্থ মানুষের পোশাক আর অলঙ্কার। বাহ্যিক ভূষণ নয়, হৃদয় সৌন্দর্যই মানুষের যথার্থ পরিচয়।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুষের হৃদয় হল যাবতীয় সুখ ও কল্যাণের আধার। জ্ঞান, পাণ্ডিত্য, মনীষা, মেধা, প্রজ্ঞা, মাহাত্ম্য মানুষের হৃদয়কে সুন্দর করে তোলে। মানুষের হৃদয়ের সৌন্দর্যের বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে তার সামগ্রিক আচরণে। তার শিক্ষা ও মহত্ত্বের প্রকৃষ্ট পরিচয়ই রয়েছে তার স্বভাবে ও আচরণে। পোশাক মানুষকে বড় করে না। পোশাক বাহ্যিক আবরণ মাত্র, তাতে মানুষের প্রকৃত পরিচয় বিধৃত হয় না। জ্ঞানী মানুষেরাই হলেন জগতের অলংকার। এরাই জগতের যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গল সাধন করেছেন। এদের জীবনাচরণের মধ্যেই সত্যিকারভাবে ধর্মের বিকাশ ঘটেছে। এ ধর্ম সঙ্কীর্ণ অর্থে কোন ধর্ম নয়। এ ধর্ম বৃহত্তর অর্থে জগৎ ও জীবনের কল্যাণ।
প্রকৃতপক্ষে, জ্ঞানই হল প্রকৃত ধর্মের পরিচায়ক ও মানুষের সত্যিকারের পোশাক। জ্ঞান ও ধর্মই হল মনুষত্বের মহিমা, মানব জীবনের প্রকৃত স্বরূপ।
ভাবসম্প্রসারণটি আবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো
মূলভাব : বাহ্যিক আড়ম্বর, দামী পোশাক ও অলঙ্কার মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব প্রকাশ করতে পারে না। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার জ্ঞান, নৈতিকতা, চরিত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত। অন্তরের সৌন্দর্যই মানুষকে সত্যিকার অর্থে মহৎ করে তোলে, বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়।
সম্প্রসারিত ভাব : মানব জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক নয়, বরং অন্তর্গত গুণাবলির মধ্যে নিহিত। একজন মানুষ কত দামী পোশাক পরে, কত স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কার ব্যবহার করে—এসব তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে না। বরং তার জ্ঞান, আচরণ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধই তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পৃথিবীতে অনেক ধনী ব্যক্তি রয়েছেন যারা দামী পোশাক, বিলাসবহুল জীবন ও বাহ্যিক জৌলুসে নিজেকে প্রকাশ করেন। কিন্তু যদি তাদের মধ্যে মানবিকতা, সহানুভূতি ও জ্ঞান না থাকে, তবে সমাজে তারা সত্যিকার সম্মান পান না। অন্যদিকে, ইতিহাসে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সাধারণ জীবনযাপন করেও জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবসেবার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন।
উদাহরণস্বরূপ, আলবার্ট আইনস্টাইন সাধারণ জীবনযাপন করলেও তার বৈজ্ঞানিক অবদান তাকে বিশ্ববিখ্যাত করেছে। আবার আমাদের উপমহাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং জ্ঞান, সাহিত্য ও নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁদের মহত্ত্ব পোশাকে নয়, কর্মে ও চিন্তায়।
একইভাবে একজন শিক্ষক, চিকিৎসক বা সমাজকর্মী যদি আন্তরিকতা, জ্ঞান ও মানবিকতা দিয়ে কাজ করেন, তবে তিনি সমাজে প্রকৃত সম্মান অর্জন করেন। অন্যদিকে, শুধুমাত্র দামী পোশাক পরিধান করে বা বিলাসী জীবনযাপন করে কেউ মহৎ হতে পারে না।
জ্ঞান মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে, আর ধর্ম ও নৈতিকতা সেই আলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এই দুটি গুণই মানুষের চরিত্রকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তাই বলা যায়, বাহ্যিক পরিচ্ছদ নয়, বরং জ্ঞান ও নৈতিকতাই মানুষের প্রকৃত অলঙ্কার।
সিদ্ধান্ত : মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব বাহ্যিক সাজসজ্জা বা দামী পোশাকে নয়, বরং জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির মধ্যে নিহিত। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত অন্তরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা এবং জ্ঞান ও সৎচরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (1)
ভাব সম্প্রসারণ টা আমার কাছে ভালো লেগেছ