ভাবসম্প্রসারণ : বিত্ত হতে চিত্ত বড়
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 387 words | 3 mins to read |
Total View 6K |
|
Last Updated 09-May-2026 | 11:05 AM |
Today View 0 |
বিত্ত হতে চিত্ত বড়
মূলভাব : বিত্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- ‘ধন’, ‘সম্পদ’। অপরদিকে ‘চিত্ত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘হৃদয়’, ‘অন্তকরণ’। পার্থিব মানুষের কাছে আপাতদৃষ্টিতে বিত্ত বড়ই লোভনীয়, কাম্য। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে বেশ অনুভব করা যায় মানুষ আজকে যখন অর্থের পাহাড় তৈরি করে নিজেদের মধ্যে ভেদাবেদ সৃষ্টি করছে, তখন মলিনতাই বাড়ছে।
সম্প্রসারিত ভাব : সুখ-সম্পদের প্রাচুর্য জড় করে আমরা আজ মনের মুক্তিকে অনুসন্ধান করে চলেছি। পাশ্চাত্যের দিকে তাকালে দেখব, পার্থিব উপকরণের সেখানে অভাব নেই, চিত্তের থেকে বিত্তেরই সেখানে প্রাধান্য। তবু তারা চিত্তমুক্তির অভাবে হতাশাগ্রস্ত। মানুষ হিসেবে তারা আঁকড়ে ধরতে চাইছেন। ত্যাগের মাধ্যমেই আসে ভোগের সার্থকতা। কাজেই মন যখন প্রসন্নভাবে মনুষ্যত্বকে একমাত্র মূলধনরূপে গ্রহণ করে বিলাস সামগ্রীর পরিমাণে সে বদ্ধ হয় না। আবার বিষয়বোধের জন্য যে প্রেরণা জাগে, তাতে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করে। অথচ চিত্তের ঐশ্বর্যে যিনি ধনী তিনি সংকটের মুখোমুখি হন না। বুদ্ধদেব, শ্রীচৈতন্য পার্থিব সুখ ভোগ ছেড়ে পথের মানুষের জন্য ভিক্ষাব্রত নিয়েছেন। পৃথিবীর বুকে কত রাজা, কে মনে রেখেছে? অন্যদিকে বিত্তের হাতছানিকে তুচ্ছ করে যাঁরা চিত্তমুক্তির পতে পা বাড়িয়েছেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসে তারাই প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন।
কাজেই আমরা যদি বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে অন্তরের মহত্ত্বকে বড় বলে জ্ঞান করি, তাহলে পাশ্চাত্যের মত ভবিষ্যতে আমাদের হতাশার শিকার হতে হবে না।
এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো
মূলভাব : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মহৎ গুণের অধিকারী হতে হলে মানুষকে কঠোর সাধনার মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়, হতে হয় মুক্ত চিত্তের অধিকারী। মহত্ত্ব বিত্তের সাহায্যে অর্জন করা সম্ভব নয়।
সম্প্রসারিত ভাব : পৃথিবীর মানুষ স্বভাববতই প্রবৃত্তির দাস। প্রবৃত্তির শৃঙ্খল মোচনের মাধ্যমেই মানুষের আত্মমুক্তি ঘটে। আর এ আত্মমুক্তির মাধ্যমেই পাওয়া যায় জীবনের আস্বাদ। ভোগে আসক্তি জন্ম নেয়, জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ ধ্বংস হয়। ভোগের দ্বারা ভোগের আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। ফলে মানুষ তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে, সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয় এবং যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করে। ভোগবাদী কোনো লোক দ্বারা পৃথিবীর মানুষের জন্যে কোনো মহৎ কাজ করা সম্ভব হয় না। অপরপক্ষে ত্যাগী মানুষ খুব সহজেই স্বীয় মহিমায় সমুজ্জ্বল হতে পারে। ত্যাগের মাধ্যমেই মানুষ পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করে, পৃথিবীর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পায়। ত্যাগেই মানবজীবনের সার্থকতা প্রতিপন্ন হয়, মানুষ প্রকৃত সুখ লাভে সক্ষম হয়। তাই ত্যাগই আমাদের চরিত্রের সর্বোচ্চ আদর্শ হওয়া উচিত। কেবল ত্যাগের দ্বারাই মানবজীবন সার্থক করা সম্ভব। মানুষ যদি অপরের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করে, তাতে তার চরিত্রে মহত্ত্বেরই প্রকাশ ঘটে। এখানেই জীবনের যথার্থ গৌরব, প্রকৃত সুখ।
মন্তব্য : জীবনের সুন্দর বিকাশের জন্যে স্বার্থত্যাগ বাঞ্ছনীয়। ভোগে জীবনের কোনো সার্থকতা নেই, নেই ন্যূনতম সুখ। ভোগহীন জীবন পরার্থে উৎসর্গ করার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (1)
Good