ভাবসম্প্রসারণ : বন্দি যেমন বদ্ধ বিচারকও তেমনি বদ্ধ
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 525 words | 3 mins to read |
Total View 1.1K |
|
Last Updated 09-May-2026 | 11:13 AM |
Today View 0 |
বন্দি যেমন বদ্ধ বিচারকও তেমনি বদ্ধ
মূলভাব : আইনের চৌহদ্দিতে বন্দি ও বিচারক দুজনেই বাঁধা পড়ে থাকেন। সমাজের এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণ বিধানের উদ্দেশ্যেই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ একটি নিয়মশৃঙ্খলা গড়ে তোলে। প্রচলিত অর্থে তা-ই সে দেশের আইন।
সম্প্রসারিত ভাব : কোন মানুষ যখন সেই নিয়মশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে তখন সমাজ ও রাষ্ট্রের অকল্যাণ করা হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখে তখন সেই ব্যক্তি অভিযুক্ত আসামি। আসামিকে বন্দি করে বিচারকের কাছে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগের সকল দিক বিচার করার দায় ভার তখন বিচারকের। যতদিন এ বিচারের কাজ শেষ না হয় ততদিন অভিযুক্তকে বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। তখন তার স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না। আপাতদৃষ্টিতে আমরা মনে করি বিচারাধীন এ বন্দিই কেবলমাত্র পরাধীন বা বদ্ধ। কিন্তু একবারও আমাদের মনে আসে না বন্দির সাথে আর একটি মানুষও তার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেন- তিনি তার অপরাধের বিচারক। বিচারক খুশি মত বিচারাধীন ব্যক্তিকে বেকসুল খালাস করে দিতে পারেন না, আবার দণ্ডবিধান করতেও পারেন না। তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা- অনিচ্ছার কোন মূল্যই থাকে না। তাকে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের আশ্রয় এবং অভিযুক্তের সপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ সম্বল করে এগিয়ে যেতে হয়। দেশের আইন যা বলে বিচারককে তাই অবনত মস্তকে মেনে চলতে হয়। বিচারক স্বাধীনভাবে চলতে চাইলে বিচার ব্যবস্থা প্রহসনে পরিণত হবে। কাজেই তার আপন খেয়ালখুশির স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না। আইনের বেড়াজালে বিচারাধীন বন্দি যেমন বাঁধা তেমনি বাঁধা পড়ে থাকেন স্বয়ং বিচারক।
ভাবসম্প্রসারণটি আবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো
মূলভাব : সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আইন তৈরি করা হয়, যা সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। এই আইনের সীমার মধ্যেই বন্দি ও বিচারক উভয়কেই চলতে হয়। তাই বাহ্যিকভাবে একজন বন্দি যেমন স্বাধীনতা হারায়, তেমনি বিচারকও ব্যক্তিগত ইচ্ছার বাইরে গিয়ে আইনের নিয়মে আবদ্ধ থাকেন।
সম্প্রসারিত ভাব : মানবসমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন অপরিহার্য। আইন ছাড়া সমাজে বিশৃঙ্খলা, অন্যায় ও অরাজকতা সৃষ্টি হবে। যখন কোনো ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করে, তখন তাকে বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। সে সময় তাকে বন্দি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এই বন্দি ব্যক্তি তখন তার স্বাধীন চলাফেরা, ইচ্ছা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কিন্তু আমরা অনেক সময় শুধু বন্দির দিকটাই দেখি, বিচারকের অবস্থানকে উপেক্ষা করি। বাস্তবে বিচারকও সম্পূর্ণ স্বাধীন নন। তিনি নিজের ইচ্ছামতো কোনো রায় দিতে পারেন না। তাকে সাক্ষ্য, প্রমাণ, আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অর্থাৎ তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতির দ্বারা নয়, বরং নির্দিষ্ট আইন দ্বারা পরিচালিত হন।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো আদালতে যদি একজন নির্দোষ ব্যক্তি ভুলভাবে অভিযুক্ত হয়, বিচারকের ব্যক্তিগত ইচ্ছা তাকে মুক্তি দিতে চাইলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া তিনি তা করতে পারেন না। আবার একজন অপরাধীর প্রতি সহানুভূতি থাকলেও আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি দিতে হয়। এই অবস্থায় বিচারকের দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়—একটি ফৌজদারি মামলায় একজন বিচারক যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনো আসামিকে পছন্দও করেন, তবুও তিনি প্রমাণ ও সাক্ষ্যের বাইরে গিয়ে রায় দিতে পারেন না। ঠিক একইভাবে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি থাকলেও আইন তাকে বাধ্য করে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে। ফলে বিচারকও এক ধরনের মানসিক ও আইনগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকেন।
এভাবে দেখা যায়, বন্দি যেমন শারীরিকভাবে স্বাধীনতা হারায়, বিচারক তেমনি আইনের কাঠামোর মধ্যে মানসিক ও পেশাগতভাবে আবদ্ধ থাকেন। দুজনেই আলাদা অবস্থানে থাকলেও উভয়েই কোনো না কোনোভাবে সীমাবদ্ধ।
সিদ্ধান্ত : ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজের জন্য আইন অপরিহার্য। কিন্তু সেই আইনের অধীনেই বন্দি ও বিচারক উভয়েই আবদ্ধ। তাই বলা যায়, সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রত্যেককেই কিছু না কিছু সীমার মধ্যে থাকতে হয়।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)