৭ম শ্রেণি : ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা : ৭ম সপ্তাহ : অ্যাসাইনমেন্ট : ২০২১
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 597 words | 4 mins to read |
Total View 1.1K |
|
Last Updated 21-Jun-2021 | 08:32 PM |
Today View 0 |
৭ম শ্রেণি : ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা : ৭ম সপ্তাহ
মনে কর তুমি ৭ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামা’আতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় কর। নিচে বর্ণিত অবস্থাগুলোর ক্ষেত্রে তুমি কীভাবে সালাত আদায় করবে বর্ণনা দাও।
যেকোনো ৩টি বিষয়ের বর্ণনা লেখ :
১। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে (স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে)
২। সালাতে এক বা দু’রাকাত মাসবুক হলে।
৩। মুসাফির অবস্থায় মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাত।
৪। অসুস্থ অবস্থায় সালাত (যখন তুমি দাড়াতে বা বসতে পার না)।
নমুনা সমাধান
১। কোভিড-১৯ একটি ভাইরাস জনিত রোগ। যা এখন সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তির জ্ঞান থাকবে ততোক্ষন পর্যন্ত তার জন্য সালাত আদায় করা ফরয। যেহেতু এখন মহামারির সময়, যেকোন ব্যক্তি থেকে এই রোগ মানুষের দেহে ছড়াতে পারে তাই সকলেরই উচিত যথেষ্ট পরিমান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সালাত আদায় করা। কোভিড পরিস্থিতিতে যেখানে জামাতে সালাত আদায় করা সম্ভব নয় সেখানে মহান আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি ঘরকে এক একটি মসজিদ বানিয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদেরও উচিত নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা। কারো সাথে কথা বলার মুহূর্তের নাক মুখ ঢেকে রাখা। হাত মিলানো বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকা এবং পরিমান মতো পানি দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। প্রতিটি মহামারি আল্লাহর এক একটি পরীক্ষা। তিনিই সকল ক্ষমতার মালিক। তার উপর ভরসা, বিশ্বাস ও ঈমান স্বচ্ছ থাকলে তিনি সকল মুশকিল আসান করে দেয়। তিনি সর্বদা বলেন তোমরা সকল পাপাচার থেকে বিরত থেকো তাহলে সামনের পথচলা হাজারো কঠিন হলেও সহজে পরিনিত হবে। আল্লাহ উপর ধৈর্য্য আর বিশ্বাস সকল বিপদ থেকে মুক্তির সহজ উপায়।
২। মুসাফির অর্থ ভ্রমণকারী। এটি একটি আরবি শব্দ। যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোন স্থানে যাওয়ার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হলে শরীয়ত মোতাবেক তাকে মুসাফির বলে। এমন ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে কমপক্ষে পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত তার জন্য মুসাফিরের হুকুম প্রযোজ্য হবে। তাই তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারে সালাত আদায়ের সুযোগ দেওয়া আছে। মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাআত বিশিষ্ট সালাত অর্থাৎ যোহর, আসর, এশার নামাজ সমূহ দুই রাকাআত করে আদায় করতে পারবে। মুসাফিরের জন্য কসর সালাত আদার করার অনুমতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ অনুগ্রহ। কিন্তু ফজর, মাগরিব ও বিতরের নামাজে কসর নেই। তাই এই নামাজগুলো পুরোপুরি আদায় করতে হবে। আল্লাহর দেওয়া সুযোগ সুবিধা খুশি মনে গ্রহণ করা উচিত। কাজেই কোন মুসাফির ব্যক্তি যদি ইচ্ছে করে যোহর, আসর বা এশার ফরজ নামাজ চার রাকাআত আদায় করে তাহলে তা গুনাহর কাজ হবে। তাই আল্লাহর অনুগ্রহ গ্রহণ করা উচিত।
৩। রুগণ ব্যক্তির জন্য সালাত আদায়ের কিছু সহজ নিয়ম রয়েছে। কোনো ব্যক্তি সালাত আদায়ে অক্ষম হলেও তার জ্ঞান থাকা পর্যন্ত তার উপর সালাত ফরজ করা হয়েছে। রোগ যত কঠিন হোক না কেন, সম্পূর্ণরূপে অপারগ না হলে সালাত আদায় করতে হবে। রোগীর দাঁড়াতে কষ্ট হলে বসে রুকু-সিজদাহর সাথে সালাত আদায় করবে। রুকু সিজদাহতে অক্ষম হলে ইশারায় সালাত আদায় করবে। ইশারা করার সময় রুকু অপেক্ষায় মাথা একটু বেশি নত হবে। মাথা দিয়ে ইশারা করতে হবে, চোখে ইশারা করলে সালাত আদায় হবে না। রুগন ব্যক্তিতে বসার সময় সালাতের অবস্থায় বসতে হবে। যদি রোগী এতোই দুর্বল হয় যে বসে থাকা সম্ভব না, তবে কেবলার দিকে পা দুটি রাখতে হবে। পা সোজা না রেখে হাঁটু উঁচু করে রাখতে হবে এবং মাথার নিচে বালিশ বা এ জাতীয় কিছু জিনিস রেখে মাথা একটু উঁচু রাখতে হবে। শুয়ে ইশারায় রুকু ও সিজদাহ করবে অথবা উত্তর দিকে মাথা রেখে কাত হয়ে শুয়ে এবং কিবলার দিকে মুখ রেখে ইশারায় সালাত আদায় করবে। যদি কোনভাবে সালাত আদায় করা না যায় তাহলে তার উপর আর সালাত ফরজ থাকে না, মাফ হয়ে যায়। তাই বলা যায় সালাত এমন একটি ইবাদাত যা সক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত আদায়ের হুকুম রয়েছে।
আরো দেখুন :
৮ম সপ্তাহের নমুনা সমাধান :
৭ম সপ্তাহের নমুনা সমাধান :
৭ম শ্রেণি : অ্যাসাইনমেন্ট : ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)