ভাবসম্প্রসারণ : বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা / নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 510 words | 3 mins to read |
Total View 14.3K |
|
Last Updated 22-Apr-2026 | 09:34 PM |
Today View 0 |
বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা
নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।
চোখকে নিরোগ সুস্থ রাখতে চোখের পাতার যেমন বিকল্প নেই। তেমনি কাজকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্রামের প্রয়োজন। কারণ বিশ্রামে শরীরে যে উদ্যম আসে, তা দিয়েই কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
কর্মময় এ পৃথিবী। এখানে প্রতিটি প্রাণীই শ্রম দিয়ে জীবন বাঁচিয়ে রাখে। পৃথিবীর মানুষ আপন শ্রমের বিনিময়েই পৃথিবীকে নতুন রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। আজকের নতুন সভ্যতা মানুষের বুদ্ধি, কৌশল ও শ্রমের ফসল। কিন্তু শ্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। জীবনে যেমন কর্মের প্রয়োজন আছে তেমনি আছে বিশ্রামের। চোখের পাতা যেমন চোখের অংশ, বিশ্রামও তেমনি কাজের অংশ। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে কর্মের জন্যে দিন ও বিশ্রামের জন্য রাত দান করেছেন। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। কাজেই দেশ, দশ ও বিশ্বকে উন্নত করার জন্যে কঠোর পরিশ্রম করা আশু দরকার। আজ বিজ্ঞানের চরম ও পরম উন্নতির যুগে জাপানিরা পরিশ্রমী হবার কারণেই টেকনোলজির দিক থেকে আমেরিকা ও রাশিয়ারকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিমিতবিশ্রাম করার প্রবণতা না থাকায় আজ তাঁরা অনিদ্রায় ভুগছে। এমন অনিদ্রা মানুষকে এক সময় অসুস্থ করে তুলতে পারে। পরে স্লিপিং টেবলেট খেয়েও ঘুম আনতে পারে না। উন্নত দেশগুলো এ রোগে ভুগছে। তাই ইসলামও বলে “তোমাদের উচিত দৈনিক ছয় ঘণ্টা ঘুম দেওয়া” পাখি, জীব-জানোয়ার, কীট-পতঙ্গ খাদ্যের অন্বেষণে বাসা থেকে বের হয় ও পেট ভরে গেলে পুনরায় ফিরে আসে বাসায় বিশ্রাম নিতে। বিশ্রামে শরীরের দুর্বলতা দূর হয়, মানুষ নবশক্তি লাভ করে, মন সতেজ ও প্রফুল্ল হয়। তাই শুধু কর্ম নয়, বিশ্রাম বা ছুটিও জীবনের জন্য অত্যাবশ্যক। মানুষের জীবনে কর্মশক্তি বাড়াবার জন্যই ছুটির দরকার।
বিশ্রাম ও পরিশ্রম একে অপরের পরিপুরক। যেমন দিন ও রাত। তাই পরিশ্রমের পর বিশ্রাম অতঃপর পরিশ্রম এ ধারায় কাজের অগ্রগতি হয়।
এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো
মূলভাব : চোখ এবং চোখের পাতা একটি অপরটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবার, শ্রম এবং বিশ্রাম একটির সঙ্গে অপরটি সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে কল্পণা করা যায় না।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ দুটি সম্পদ জন্মসূত্রে লাভ করেছে। একটি সম্পদ হল কাজ (শ্রম) এবং অপরটি বিশ্রম। যখন থেকে সে কাজ করার অধিকার পেয়েছে তখন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রাম লাভের সুবিধাও অর্জন করেছে।
মানুষের ওপর ন্যস্ত হয়েছে কাজ অর্থাৎ কাজ করার জন্যেই সে নিয়োজিত। আবার কাজের সাথে সাথে তার বিশ্রামের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। এক কথায় শ্রমের প্রয়োজনেই বিশ্রাম গ্রহণের আবশ্যকতা। বিশ্রাম কাজ করার জন্য প্রেরনা যোগায়, উৎসাহ সৃষ্টি করে। যেখানে শ্রম নেই, সেখানে বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। যারা শ্রমজীবী নয় তাদের কাছে বিশ্রামের কোন মাধুর্য নেই, সেখানে বিশ্রামের প্রয়োজিত কেবল তারাই বিশ্রামের মাধুর্য উপলব্ধি করতে পারে।
চোখের পাতার অপরিহার্যতা চোখের জন্যে; নচেৎ চোখের পাতাহীন চোখের কথা কেউ কি কখনও ভাবতে পারে? অতএব চোখের স্বাভাবিকতার জন্যেই চোখের পাতার প্রয়োজন। চোখ এবং চোখের পাতা-এ দুই প্রত্যঙ্গ যেমন অপরিহার্য- তেমনি শ্রম এবং বিশ্রাম-এ দুটিও অপরিহার্য। মানুষ একটানা কাজ করতে পারেনা। যদি কেউ করে তা’হলে তার স্নায়ুগুলো অবসন্ন হয়ে পড়বে। এ অবসাদ দূর করার জন্যেই বিশ্রামের প্রয়োজন। বিশ্রাম মানব দেহের অবসাদ দূর করে, তার কর্মশক্তি ফিরিয়ে আনে।
শ্রম ও বিশ্রাম একে অপরের যেমন পরিপূরক। তেমনি চোখ ও চোখের পাতা একে অন্যের পরিপূরক। এর একটি অপরটি ছাড়া কল্পনাও করা যায় না।
শিক্ষণীয় দিক:
- বিশ্রাম অলসতা নয়, বরং পরবর্তী কাজের শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চয়ের মাধ্যম।
- পরিশ্রম ও বিশ্রাম একে অপরের পরিপূরক; নিরবচ্ছিন্ন শ্রম শরীর ও মনের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- কাজের সার্থকতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পরিমিত বিশ্রাম অপরিহার্য।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (1)
very good